উত্তর জনপদে শৈত্যপ্রবাহ ‘পরশ’ আসছে !
Jahura Agro Desk
‘পরশ’ নামে একটি শৈত্যপ্রবাহ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ১৪-১৮ ডিসেম্বর বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। বিশেষ করে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর অঞ্চলের ওপর এই ঠান্ডার প্রভাব বেশি পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শৈত্যপ্রবাহ ‘পরশ’ — কী হচ্ছে?
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর দিক থেকে নেমে আসা ঠান্ডা বাতাসের কারণে হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গেলে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। চলতি মৌসুমে যে ‘পরশ শৈত্যপ্রবাহ’ আসছে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তা হতে পারে:
হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার
তাপমাত্রা ৮–১২°C এর মধ্যে নেমে আসতে পারে।
২–৫ দিন স্থায়ী হতে পারে।
এ ধরনের শৈত্যপ্রবাহ কৃষি ও লাইভস্টক সেক্টরে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ফসলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
১. শাকসবজি ও চারায় ক্ষতি টমেটো, মরিচ, বেগুন, ফুলকপি–বাঁধাকপি—এসব গাছের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে।
২. আলু ও সরিষা ক্ষেতে স্ট্রেস হঠাৎ ঠান্ডায় পাতায় দাগ, ফুল ঝরা এবং রোগ–ব্যাধির ঝুঁকি বাড়ে।
৩. গম ও ডাল জাতীয় ফসল অতিরিক্ত ঠান্ডায় শিকড় পর্যাপ্ত পুষ্টি টানতে পারে না।
গবাদিপশু ও পোলট্রির ওপর প্রভাব
শৈত্যপ্রবাহ livestock–এ তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে:
গরু–ছাগলে কাশি ও শ্বাসকষ্ট।
দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া।
হাঁস–মুরগিতে ঠান্ডাজনিত নিউক্যাসল ও CRD ঝুঁকি বৃদ্ধি।
বাচ্চা মুরগি ও বাছুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
জহুরা এগ্রোর পরামর্শ
ফসলের জন্য করণীয়:
সকালে নয়, দুপুরে সেচ দিন।
গাছের চারপাশ খড়/পলিথিন দিয়ে মালচিং করুন।
চারা ঘরে নাইলন শেড নেট ব্যবহার করুন।
পাতা পোড়া রোধে প্রতিরোধমূলক স্প্রে প্রয়োগ করতে পারেন।
অতিরিক্ত পানি জমতে দেবেন না।
পোলট্রি ও গরুর জন্য করণীয়:
খামারের জানালা–ফাঁকফোকর পলিথিন/জুট কাপড় দিয়ে বন্ধ করুন।
শিশু মুরগির জন্য বাল্ব/ব্রুডার হিট ল্যাম্প ব্যবহার করুন।
গরুর ঘরে শুকনো খড় বিছিয়ে রাখুন।
গরম ভুসি–পানি রাতে দেওয়া যেতে পারে।
অসুস্থ পশুর ক্ষেত্রে দ্রুত কৃত্রিম প্রজনন/পশুচিকিৎসক পরামর্শ নিন।